সম্পতি অবসরের বিষয় নিয়ে পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে বাকযুদ্ধে জড়াচ্ছেন মোহাম্মদ আমির ও দলের কোচ মিসবাহ উল হক, ওয়াকার ইউনিসরা। এ বিষয় নিয়ে রীতিমতো বিরক্ত পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি।

শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) লাহোরে একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আফ্রিদি বলেন, এখন আমির ও ওয়াকারের মধ্যে যে মতভেদ হচ্ছে, তা পাকিস্তান ক্রিকেটে প্রচলিত রীতির মতো হয়ে গেছে।

ওয়াকার ইউনিসের সঙ্গে তার মতভেদের বিষয়টা সবারই জানা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোচিং স্টাফ এবং মোহাম্মদ আমিরের মধ্যকার দ্বন্দ্বটা ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বলা যায়। এটা ভালো কোনো বিষয় নয়। খেলোয়াড়দের সঙ্গে ক্রিকেট বোর্ডের একটা অভিভাবকসুলভ সম্পর্ক রয়েছে। আমির হোক বা অন্য কেউ, বোর্ডের উচিত তাদের নির্দিষ্ট পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা করা।’

তিনি বলেন, ‘কোচিং স্টাফের বদলে যদি নির্বাচক প্যানেলের চেয়ারম্যান কিংবা প্রধান নির্বাচক যদি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন, তাহলে এটা ভালো হবে। আমিরের বিষয়টা কারণ ছাড়াই বড় করা হয়েছে। বোর্ডের উচিত আমিরের সঙ্গে কথা বলে এর একটা সুরাহা করা। একজন খেলোয়াড়ের বাজে সময়ে কোচের উচিত তার পাশে দাঁড়ানো। দেশ ও দলের জন্য সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করা উচিত।’

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য পাকিস্তানের ২০ সদস্যের স্কোয়াড নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আফ্রিদি।

তিনি বলেন, ‘তারা নিজেদের ফিটনেসের বিষয়টি পাশ কাটিয়ে করোনাভাইরাসের ওপর দায় চাপিয়েছে। তারা তিনটি টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে টেস্ট দলে খেলোয়াড় নিয়েছে। এমন প্রতিভা অল্প দিনেই হারিয়ে যায়। জাতীয় দলে আনার আগে মোহাম্মদ হাফিজ বা শোয়েব মালিকদের মতো খেলোয়াড় গড়তে হবে। মালিক এই দলের মেরুদণ্ড। সামনে বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করে মালিককে দলে রাখতে হবে।’

হেড কোচ মিসবাহ উল হককে আরও সাহসী হওয়ার তাগাদা দিয়ে আফ্রিদী বলেন, ‘দেশের হয়ে মিসবাহ অনেক কিছু অর্জন করেছেন। তবে বর্তমান দলের আরেকটু সাহসী খেলা উচিত। আপনি মুরগির কলিজা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে পারবেন না। যারা চাপের মুখে লড়তে পারে, তারাই শুধুমাত্র সাফল্য আনতে পারে।’

তিনি বলেন ‘আমি মনে করি, সাবেক খেলোয়াড়দের শুধুমাত্র জাতীয় দলের কোচ হতে দিলেই চলবে না। মোহাম্মদ ইউসুফ, ইনজামাম উল হক, ইউনুস খানদের মতো তারকা ক্রিকেটাররা জুনিয়র লেভেলের ক্রিকেটারদের নিয়েও অনেক ভালো কিছু করতে পারেন। যেমনটা ভারতের হয়ে করছেন রাহুল দ্রাবিড়।’