স্টাফ রিপোর্টার : উত্তাল হচ্ছে সাগর, বৃষ্টি-দমকা হাওয়ায় উৎকণ্ঠা বাড়ছে

ধেয়ে আসছে সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’। উপকূলের চারশো কিলোমিটারের মধ্যে এখন ঘূর্ণিঝড় আম্পানের অবস্থান। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আজ বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় সুন্দরবনের কাছ দিয়ে উপকূল অতিক্রম করবে ঘূর্ণিঝড়টি। এরইমধ্যে আম্পানের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছে। উপকূলবাসীকে রক্ষায় সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে।

খুলনায় মধ্যরাতের পর থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দমকা হাওয়া। ঝুঁকিপূর্ণ ৫২ হাজার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্র বন্দর এলাকায় ১শ’ ৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তবে বেশির ভাগ আশ্রয়কেন্দ্রের ভেতর-বাইরে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।
আম্পানের প্রভাবে চট্টগ্রামে ক্রমেই উত্তাল হচ্ছে সাগর। তীরে আছড়ে পড়ছে বড় বড় ঢেউ। সেই সঙ্গে অব্যাহত রয়েছে গুড়িগুড়ি বৃষ্টিপাত। বন্দরের ক্ষতি এড়াতে বহির্নোঙর থেকে ১শ’ জাহাজকে গভীর সাগরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বেড়ি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বরিশালে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগু‌লো‌তে‌ যে‌তে শুরু ক‌রে‌ছে লোকজন। মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত ১১টা পর্যন্ত জেলায় ৫০ হাজার এবং বিভা‌গে সা‌ড়ে ৪ লাখ মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আসেন। নিরাপদ আশ্রয়ে লোকজনকে সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হচ্ছে।
ভোলায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে নদীর পানি ক্রমেই বাড়ছে। সেইসঙ্গে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। অর্ধশতাধিক চরাঞ্চল থেকে এরইমধ্যে দুই লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
সময় যত গড়াচ্ছে বৃষ্টির সঙ্গে বাড়ছে বাতাসের গতিবেগ। বেড়িবাঁধ থেকে মানুষকে সরিয়ে নিতে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন।
সন্ধ্যার পর থেকে ফেনীতে থেমে থেমে অঝোরে বৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রস্তুত করা হয়েছে ফেনীর সোনাগাজী উপকূলের ৫২টি আশ্রয় কেন্দ্র। আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন ও গবাদিপশু সরিয়ে আনতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।