মোহাম্মদ নাসিম আর নেই
স্টাফ রিপোর্টার : সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম আর নেই। শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর শ্যামলী বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাসিমের বয়স হয়েছিলো ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গত পয়লা জুন নিউমোনিয়াজনিত সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হন তিনি। তবে পরদিন থেকে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয় ৷ কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৫ জুন শুক্রবার ভোরে তার ব্রেইন স্ট্রোক হয়। সে দিনই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রাজিউল হকের নেতৃত্বে অস্ত্রোপচার হয়। এর আগেও তার একবার ব্রেইন স্ট্রোক হয়েছিল। অপারেশনের পর চিকিৎসকরা তাকে ৪৮ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন।

পরে গত ৬ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ৫ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। বিকেলে মেডিক্যাল রোর্ড সভা করে তার শারীরিক অবস্থা পযালোচনা করেন। চিকিৎসকদের বোর্ড তাকে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন। ওইসময়ের মধ্যে তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ডিপ কোমাতে রাখা হয় ৷

এ অবস্থায় গত ৯ জুন তার পুনরায় করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়। পরপর তিনটি করোনা টেস্টের ফল নেগেটিভ আসে।

অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা নাসিমের শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে গেলে ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। ওই বোর্ডের সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রখ্যাত নিউরোসার্জন অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া বলেছিলেন, ক্রিটিক্যাল অবস্থায় যাওয়ার পর থেকেই লাইফ সাপোর্টে ছিলেন নাসিম।

পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয় ৷ কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হওয়ায় বিদেশ নেওয়ার মতো অবস্থা থাকে না। ফলে চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি ৷

বংশ পরম্পরায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন নাসিম। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।