ওসমান গনি : এই মহামারী করোনাভাইরাসের দুর্যোগের সময় ও কি আমরা একটু উদার হতে পারি না? কেন পারি না? আমরা কি মানুষ না? কেন আমাদের মনে এত ক্ষোভ? কিসের আমাদের এত অহংকার? চোখ দুটি বন্ধ হলেই সবাই আমার পর। যেটা বর্তমানে হরহামেশাই আমাদের চোখের সামনে ঘটছে।

আমরা তো সারাজীবন বই পুস্তকে শিক্ষালাভ করে এলাম, মানুষ মানুষের জন্য, নিজের খাবার বিলিয়ে দেব অনাহারীর মূখে। এ দুর্যোগ সময়ে আমরা তা বাস্তবে দেখছি, একজন মানুষের বিপদে আরেকজন মানুষ কিভাবে তার নিজের জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিচ্ছে। তা থেকেও কি আমরা কিছু শিখতে পারছি না? বর্তমানে করোনাভাইরাসের এই মহামারী সময়ে ভাইরাস আক্তান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে শুধু বাংলাদেশ নয় আজ সারাবিশ্বে এ ঘাতক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য পেশার লোকজন মৃত্যুপথে ধাবিত হচ্ছে। তারপর বন্ধ নেই তাদের সেবা কার্যক্রম। যারা মরে যাচ্ছে তারতো চলেই যাচ্ছে, আর আমাদের কে শিখিয়ে বা বলে যাচ্ছে য়ে, আমরা চলে গেলাম আমাদের দুঃখ নাই কিন্তু আমার জীবনের বিনিময়ে বাঁচিয়ে গেলাম আমার মতো আরও দশটি তরতাজা প্রান। আমি মরেও শান্তি পাব? আমার কোন কষ্ট নাই।আমার কারনে পৃথিবীতে বেচে গেল কযেকটি জীবন।
এ পৃথিবীতে সৃষ্টি হওয়া সকল মানুষের দ্বারা সব রকম কাজ হবে না। এটা আশাও করা যাবে না। কারন সবার দ্বারা সব কাজ হয় না।এ পৃথিবীতে কে? কি? করবে সেটা মহান আল্লাহর তরফ হতে ফয়সালা হয়ে থাকে। কে কোন দেশের প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, এম পি হবে,কার দ্বারা দেশ বা এই পৃথিবী পরিচালিত হবে সেটা মহান আল্লাহ ভালো জানেন। এটা জানার অধিকার আল্লাহ কাউকে দেন নাই।
করোনাভাইরাসের এই মহামারীতে যখন সারাবিশ্ব আর্থসামাজিক ভাবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সেই অবস্থা থেকে বাদ যায়নি আমাদের বাংলাদেশও। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তাদের স্ব স্ব অবস্থানে থেকে বিভিন্ন ট্যাকনিক খাটিয়ে বাচার চেষ্টা করে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। কেউ ভাইরাসটির ভেক্সিন, কেউ টেস্ট কিট তৈরি করছে। তারা তাদের অতীতের মনমালিন্য ভূলে গিয়ে দেশের ও দেশের মানুষের জীবন বাচানোর জন্য সরকারের সহযোগী হিসাবে সরকার কে সাহায্য করছে। সরকারও তাদের কি অভিনন্দিত করছে, উৎসাহ যোগাচ্ছে তাদের আবিষ্কারের কাজেে।
আমাদের বাংলাদেশ তো তেমন কোন উন্নত দেশ না। নাই যথেষ্ট পরিমানে অর্থ, আবিষ্কারক লোকের সংখ্যা ও তেমন উল্লেখযোগ্য নাই। যারা আছেন তারা অনেকেই দেশের বাহিরে অবস্থান করছে। দেশের আবিষ্কারক এই দুঃসময়ে তারা কে কি করছেন তারাই ভালো জানেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রমণের পর স্তব্ধ হয়ে গেল দেশ। এ রোগ সম্পর্কে তো কারো কোন ধারণা নেই। আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা তারা কি দিবে? অনেক চিকিৎসা জীবন নিয়ে পালিযেছেন। সেদিকে যাচ্ছি না।
করোনাভাইরাসের টেস্ট কীট আবিষ্কার করল বিএনপির নেতা ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। সরকারকে দিতে গেল, সরকারের ওষুধ প্রশাসন তা গ্রহন করেনি। কেন গ্রহণ করলেন না? নিজেরাও কিছু করতে পারলেন না, অন্যজন করে দিলেও নিবেন না এটা কেমন কথা? বিষয়টি মানুষকে ক্লিয়ার করলেন না কেন? মানুষের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হতে সময় লাগে না। দেশের মানুষ হলো দেশের বড় সম্পদ। দেশের বড় সম্পদ রক্ষা করুন। হিংসা প্রতিহিংসা ভূলে, রাজনৈতিক মনোমালিন্য ভূলে দেশের মানুষকে বাচান। ঠিক আছে ডাঃ জাফরুল্লাহর কীট নিবেন ভালে কথা, তাহলে নিজেরা তৈরি করে দ্রুত দেশের মানুষকে বাচান। দেশে প্রেমিক হওয়ার চেষ্টা করেন, দেশের মানুষকে ভালোবাসার চেষ্টা করেন। রাজনীতি ক্ষমতা এক জিনিস আর মানুষের জীবন আরেক জিনিস। মানুষের জীবন নিয়ে অবহেলা করা ঠিক না। আসুন আমরা একটু উদার হই, দেশের প্রতি ও মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হই।

লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট
Email- [email protected].com.