মো. আবদুল বাতেন : কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার তীরচর গ্রামে আরাফাত হোসাইন (৮) নামে এক শিশুকে গলাটিপে হত্যার দায়ে সৎ মা সুমী আক্তার ও শিশুর বাবা মো. ফরিদ মিয়াকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। আরাফাতের মা ফেরদৌসী বেগম বাদি হয়ে সোমবার (১ জুন) চান্দিনা থানায় ওই হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যার ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নিহতের বাবা ও সৎ মাকে আটক করে চান্দিনা থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে।

মঙ্গলবার (২ জুন) কুমিল্লার আদালতে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় শিশুটির সৎ মা সুমী আক্তার। পরে আদালত সৎ মা ও শিশুটির বাবাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ মো. আবুল ফয়সল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন- শিশুটির সৎ মা হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে। তবে মামলার আরও তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, চান্দিনা উপজেলার তীরচর গ্রামের আরাফাত হোসাইন (৮) নামে ওই শিশুকে গলাটিপে হত্যা করেছে সৎ মা। মরদেহ গোপন করতে বাড়ির গোয়াল ঘরে খর-কুটু দিয়ে ঢেকে রাখার ১০ ঘন্টা পর নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে নিহতের পিতা ও সৎ মাকে আটক করা হয়।

রবিবার (৩১ মে ) রাত ১১টায় চান্দিনা উপজেলার তীরচর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশু আরাফাত চান্দিনা উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নের তীরচর গ্রামের মো. ফরিদ মিয়ার ছেলে। সে তীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চান্দিনা থানার এসআই মো. হারুন মিয়া জানান, আদালত আসামী দুইজনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করেন। সম্পত্তির লোভেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দী হাতে পেলে মামলার তদন্ত শেষ করা সম্ভব হবে।