সাধন সাহা জয় , নবীনগর ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেপুর ইউনিয়নের লাউর গ্রামে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত দরিদ্র শ্রমজীবী জয়নাল মিয়ার খুনিদের ফাঁসির দাবিতে গতকাল বিকেলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে।
ঘটনার এক সপ্তাহ পরও চিহ্নিত খুনিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই মানববন্ধন থেকে খুনিদের পাশাপাশি হত্যাকারীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়া মদদ দাতাদেরও দ্রæত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।

জানা যায়, লাউর ফতেপুর ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে গতকাল বিকেলে স্থানীয় লাউর ফতেপুর বাজারে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহতের স্বজনসহ এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নিয়ে খুনিদের ফাঁসির দাবিতে একাত্মতা প্রকাশ করে।
পরে স্বতঃস্ফুর্ত ওই মানববন্ধন থেকে বক্তারা নৃশংসভাবে খুন হওয়া দরিদ্র জয়নালের হত্যাকারী ও মদদদাতাদের দ্রæত গ্রেপ্তার করে তাদের ফাঁসির দাবি জানান। এ সময় বক্তারা অতি দরিদ্র নিহত জয়নালের নাবালক সন্তানসহ অসহায় পরিবারটিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি
কামনা করা হয়।
তবে নৃশংস এই খুনের ঘটনার সাত দিন পর হত্যাকারী ও তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতারা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রচÐ ক্ষোভ প্রকাশ করেন
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একটি চিহ্নিত প্রভাবশালী মহল জয়নালের খুনি সন্ত্রাসী আলী আকবর গংকে রক্ষা করতে শুরু থেকেই নানাভাবেপাঁয়তারা করছেন। যারফলে হত্যাকারীরা চিহ্নিত হওয়ার পরও গত সাতদিনেও
গ্রেপ্তার হচ্ছে না খুনিরা।
এ বিষয়ে নবীনগর সার্কেলের দায়িত্বে থাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মকবুল হোসেন আজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘জয়নালের খুনিদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম দিনরাত কাজ করছে। আশা করছি, শিগগিরই খুনিরা ধরা পড়বে।’
তবে তদন্তে খুনিদের কোনো আশ্রয় প্রশ্রয় কিংবা মদদ দাতা কারো নাম
পাওয়া গেলে এরা যত শক্তিশালীই হোক কেউ রেহাই পাবে না বলেও তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান।উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন লাউর গ্রামে প্রকাশ্যে আলী আকবর ও তার লোকজন পূর্ব বিরোধের জের ধরে দা দিয়ে কুপিয়ে জয়নালকে গুরুতর জখম করে।
পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জয়নাল গত রবিবার রাতে মারা যান।