ডেক্স রিপোর্ট : ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানতে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। শুরু হয়েছে প্রকৃতির তাণ্ডব। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি পুরো শক্তি নিয়ে আঘাত করতে সময় লাগবে আরো চার ঘণ্টা। এরই মধ্যে ওড়িশায় এক শিশু ও হাওড়ায় ১ কিশোরির মৃত্যু হয়েছে।

ভারতের স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে শুরু হয় আম্পানের আঘাত। কলকাতায় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০৫ কিলোমিটার। বিশাখাপট্টনমে ঝড় ও জলোচ্ছাসে প্লাবিত হয়েছে নিচু এলাকা। এর প্রভাবে বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায়।

আম্পান পশ্চিমবঙ্গের দীঘা ও বাংলাদেশের হাতিয়ার মধ্যবর্তী ভারত-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া অফিস। কেবল পশ্চিমবঙ্গেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে ৫ লাখেরও বেশি মানুষকে। ওড়িশায় আশ্রয়কেন্দ্রে আছে ১ লাখ।

বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা পর্যন্ত কলকাতা বিমানবন্দর বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় ও প্রবল বৃষ্টি থেকে বাঁচতে কলকাতায় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এলাকাজুড়ে চলছে তুমুল বৃষ্টি। স্থলভাবে উঠে আসার পর বৃষ্টি ঝরিয়ে কমতে শুরু করবে ঝড়ের শক্তি। তবে এগোনোর গতি থামবে না।

ভারতের আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আম্পান আঘাত হানার সময় বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটারের মধ্যে। সে সময় এর অবস্থান ছিল ভারতের সাগরদ্বীপ থেকে ৩৫ কিলোমিটার, দীঘা থেকে ৬৫ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের খেপুপাড়া থেকে ২২৫ কিলোমিটার দূরে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে ইতিমধ্যেই দুই ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক জায়গা থেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার পাশাপাশি উড়ে গিয়েছে চাল। ভেঙে পড়েছে গাছপালা। উপকূল এলাকায় সমুদ্রে বেড়েছে জলোচ্ছ্বাস। আম্পানের দাপট বিকেলের পর থেকে আরো বাড়ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পূর্ব মেদিনীপুরের ছত্রধরা গ্রামের শ্যামল জানা বলেন, বাড়ির আশপাশে বেশ কয়েকটি বড় বড় গাছ ভেঙে গিয়েছে। বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে। বাড়ির একটা অংশে টিনের চাল ঝড়ে উড়ে গেছে। জীবনে এমন ঝড় দেখিনি।

তাজপুরের এক হোটেলকর্মী সহদেব কালসা বলেন, ভয়ঙ্কর ঝড়, সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি। আমাদের আশপাশের বেশ কয়েকটি হোটেল ও রিসোর্টের খড়, টিন এবং অ্যাসবেস্টসের চাল উড়ে গিয়েছে। প্রচুর গাছ ভেঙে পড়েছে। যে ঝড় শুরু হয়েছে তা এই সন্ধ্যাতেও সমান ভাবে আছড়ে পড়ছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও সকাল থেকে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। বকখালি, ফ্রেজারগঞ্জ, নামখানা, কাকদ্বীপ- সর্বত্র ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ছিল বৃষ্টি। বেলা বাড়তেই তার দাপট বাড়তে থাকে। ঝড়ের দাপটে ঘড়বাড়ি ভাঙার পাশাপাশি গাছপালা উপড়ে যায়।

উত্তর ২৪ পরগনায় আম্পানের প্রভাবের হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি হাসনাবাদ, বসিরহাট, বারাসত, বনগাঁ- সকাল থেকেই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ছিল। দুপুরের পর থেকে সেই দুর্যোগ আরো বাড়তে থাকে। ঝড়ের দাপটে অনেক জায়গাতেই গাছপালা ভেঙে পড়ে।